রাজধানীর মীরপুরে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল মিয়ার রাজনৈতিক পরিচয় ও নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অভিযুক্ত সোহেল এলাকায় কট্টরপন্থী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। ​এলাকাবাসী জানান, গত নির্বাচনে তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড পর্যায়ে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে বিভিন্ন বিল্ডিংয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিফলেট বিতরণ ও ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। রুবেল মোল্লা নামে এক বাসিন্দা জানান, নির্বাচনের সময় সোহেল নিয়মিত জামায়াতের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র পক্ষে ভোট চাইতেন এবং সাধারণ মানুষকে ‘কোরআনের শাসন’ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সচেতন করতেন। রহিমা খাতুন নামে এক গৃহকর্মীও একই ধরনের তথ্য দিয়ে জানান, গত নির্বাচনের সময় সোহেল তার স্বামীর কাছে ভোট চাইতে এসে বলেছিলেন, “ইসলামে বিশ্বাস করলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে হবে।” ​এ ছাড়া অভিযুক্ত সোহেলের ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কট্টর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রচারণায় লিপ্ত ছিলেন। তিনি নিয়মিত বিভিন্ন ধর্মীয় বক্তার ওয়াজের ভিডিও শেয়ার করতেন। পাশাপাশি ওসমান হাদীর পক্ষেও তার একাধিক পোস্ট পাওয়া গেছে। ​পুলিশ জানিয়েছে, শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ক্লু উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্তের এই রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড এবং তার অন্য কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড আছে কিনা, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Comments

Popular posts from this blog

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট 'ঢাকা মহানগর উত্তর'। রাজপথের আন্দোলন এবং সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে এই ইউনিটের ভূমিকা সবসময়ই অগ্রগণ্য। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে এই ইউনিটের নতুন কমিটি। আর এই কমিটিকে ঘিরে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝে বইছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপন। দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে সক্রিয় থাকা, আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রভাগে থাকা এবং একাধিকবার কারাবরণ করা ত্যাগী নেতাদের নামই বর্তমানে আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উঠে আসছে। বিশেষ করে যারা বিগত সময়ে র কঠিন পরিস্থিতিতেও সংগঠনের হাল ছাড়েননি এবং সাধারণ কর্মীদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখেছেন, তাদের নিয়েই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আলোচনায় যারা, সভাপতি পদে এগিয়ে আছেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম মিজানুর রহমান রাজ আরও আছেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান রুয়েল ও মনিরুল ইসলাম স্বপন ও এবং সাধারণ সম্পাদক পদে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন রুবেল ও আইয়ুব আলী এবং তসলিম আহসান মাসুম ও যুগ্ম আহ্বায়ক জুলহাস আহমেদ।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট '১০০ ফিট বেরাইদ গরুর হাট'-এর প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। হাটের ইজারাদার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব আতাউর রহমান চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে ইতিমধ্যেই হাটে পুরোদমে কাজ শুরু হয়ে গেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাটের সীমানা নির্ধারণ, বাঁশ পোঁতা, লাইটিং এবং ব্যাপারীদের জন্য নিরাপত্তা ও থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দিনরাত কাজ করছেন শত শত কর্মী। হাটের বিশাল এলাকা জুড়ে পশু রাখার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। ইজারাদার আলহাজ্ব আতাউর রহমান চেয়ারম্যান জানান, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা এবং সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর। জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যাপারীদের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হাট কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করছে যে, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আগামী রবিবার থেকেই হাটে আনুষ্ঠানিকভাবে কোরবানির পশু আসতে শুরু করবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যাপারীরা ইতিমধ্যেই তাদের পশু নিয়ে এই হাটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। রাজধানীর পূর্বপ্রান্তের বাসিন্দাদের জন্য যাতায়াত সুবিধা এবং বিশাল জায়গার কারণে প্রতিবারের মতো এবারও বেরাইদ গরুর হাটে রেকর্ডসংখ্যক পশুর সমাগম ও কেনাবেচা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আবারও প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে মধ্য আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে। কয়েক সপ্তাহ ধরে অলক্ষ্যে ছড়িয়ে পড়া এই সংক্রমণ বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নতুন করে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। বিশেষ করে গৃহযুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংকটে থাকা অঞ্চলে ভাইরাসটির বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিজ্ঞাপন এ পর্যন্ত প্রায় ২৫০ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ডব্লিউএইচও আশঙ্কা করছে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি সংকটজনক হলেও এটি কোভিড-১৯-এর মতো বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা খুব কম। কারণ ইবোলা সাধারণত দ্রুত শনাক্ত ও বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হয় এবং এটি বাতাসে ছড়ায় না। ২০১৪-১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবে প্রায় ২৮ হাজার ৬০০ মানুষ আক্রান্ত হলেও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে সংক্রমণ সীমিত ছিল। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যানডেমিক সাইন্সেস ইনস্টিটিউটের ড. আমান্ডা রোজেক বলেন, বিশ্বব্যাপী মহামারির ঝুঁকি না থাকলেও পরিস্থিতি যথেষ্ট জটিল। এটি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয় প্রয়োজন। বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি ঘটছে ইবোলার বিরল “বুন্দিবুগিও” প্রজাতির কারণে। এর আগে মাত্র দুবার ২০০৭ ও ২০১২ সালে এই ধরনের সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল। এই প্রজাতিতে আক্রান্তদের প্রায় ৩০ শতাংশের মৃত্যু হয়। বিজ্ঞাপন সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বুন্দিবুগিও প্রজাতির বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। এমনকি প্রচলিত ইবোলা পরীক্ষাগুলিও অনেক ক্ষেত্রে এটি শনাক্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। কঙ্গোতে প্রথম দিকের পরীক্ষাগুলো নেতিবাচক এলেও পরে উন্নত ল্যাব পরীক্ষায় ভাইরাসটির উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ট্রুডি ল্যাং বলেন, বুন্দিবুগিও প্রজাতি মোকাবিলা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ইবোলায় আক্রান্ত হওয়ার ২ থেকে ২১ দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা দিতে পারে। প্রথমে জ্বর, মাথাব্যথা ও দুর্বলতা থাকলেও পরে বমি, ডায়রিয়া, অঙ্গ বিকল হওয়া এবং কখনো কখনো রক্তক্ষরণ শুরু হয়। নির্দিষ্ট ওষুধ না থাকায় রোগীদের সাপোর্টিভ কেয়ারের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আক্রান্তদের দ্রুত আইসোলেশন, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং নিরাপদ চিকিৎসা ও দাফন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। তবে যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুত মানুষের কারণে কঙ্গোর অনেক এলাকায় এই কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবেশী দেশ উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান ও রুয়ান্ডার জন্যও ঝুঁকি রয়েছে। ইতোমধ্যে উগান্ডায় দুইজনের শরীরে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে একজন মারা গেছেন।